আব্দুল বাছিত বাচ্চু
২০০২ সালে একদিন সকালে ঢাকায় জনাব এম নাসের রহমান সাহেবের অফিসে আমার প্রথম যাওয়ার সৌভাগ্য হয়। গিয়েছিলাম সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন ভাইয়ের সাথে। জনাব এম নাসের রহমান তখন সবে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দ্বায়িত্ব নিয়েছেন।
আমরা মুলতঃ কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির কমিটির বিষয়ে গিয়েছি।তিনি সোঝা বলে দিলেন সকলের নাম অন্তর্ভুক্ত করে নিয়ে আসতে। গিয়াস ভাইকে সভাপতি ,রফিক ভাই,গফুর ভাই, হান্নান ভাইকে সহ সভাপতি, বদরুজ্জামান সজলকে সাধারণ সম্পাদক,সৈয়দ তফজ্জুল হোসেন তফই চাচাকে যুগ্ম সম্পাদক রেদোয়ান ভাইকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে আমরা কমিটি জমা দেই। কমিটির আমি ছিলাম প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। কমিটি হাতে পেয়ে তিনি অনুমোদন করে দিলেন। যে কমিটির মাধ্যমে কুলাউড়া উপজেলায় বিএনপি স্মরণকালের শক্তিশালী হয়েছিলো। ওই সময় তিনি কুলাউড়া উপজেলার একটি অনুষ্ঠানে আসলে শাহীন ভাইয়ের বাসায় উনার জন্য মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়। এক ফাঁকে আমরা কুলাউড়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ উনার সাথে দেখা করি।তিনি সাথে সাথে আমাদের জমি দেখার কথা বলেন। পাশাপাশি জমি পেলে তিনি কুলাউড়া প্রেসক্লাবের আধুনিক ভবন করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরবর্তীতে নিউইয়র্ক ঠিকানার একটি সংবাদ নিয়ে উনার সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন এম এম শাহীন। যেকারণে আমাদেরও দূরত্ব সৃষ্টি হয়।
২
ওয়ান ইলেভেনের সময় বিএনপির যে কয়জন কে প্রথমে গ্রেফতার করা হয় তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন। অনেক দিন জেল কেটেছেন। যে কারণে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে উনার প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যায়। ২০০৯ সালে বিএনপির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় হাজীপুর ইউনিয়নে ফয়জু মামু ( সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান) এবং তাহির ভাই ( মরহুম তাহির উদ্দিন) সহ আমরা সিদ্ধান্ত নেই এম নাসের রহমান সাহেবের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে আমরা রাজনীতি করে যাবো। হাজীপুর ইউনিয়ন সম্মেলন করে আমরা যখন উপজেলা সম্মেলনে যোগ দেই দেখেছি কুলাউড়া উপজেলার নেতৃত্বে উনি চান কামাল আহমেদ জুনেদ এবং রেদোয়ান খানকে। আমরা সেভাবে কাউন্সিলে সমর্থন করি। এক কথায় প্রতিটি ইউনিটে উনি খুঁজতেছেন ভালো মানুষগুলোকে।
২০১৭ সালে একদিন উনার বাড়িতে গিয়ে দেখি জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এডভোকেট আবেদ রাজা, জুনেদ ভাই, মজিদ ভাই সহ কয়েকজন গেছেন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির কমিটি অনুমোদন করাতে। এম নাসের রহমান সাহেব জিজ্ঞেস করলেন কমিটিতে সকলের নাম আছে কী ? এডভোকেট আবেদ রাজা সাহেব আমাকে দেখিয়ে জানালেন চেয়ারম্যান সাহেবকেও উপদেষ্টা রাখা হয়েছে। তখন উনার সামনে এডভোকেট আবেদ রাজা সাহেবকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম বিএনপির রাজনীতি শিখার আগেই আমি কীভাবে উপদেষ্টা হয়ে গেলাম? এই সামান্য একটি কথায় জনাব এম নাসের রহমান সাহেব বুঝে গেলেন কমিটির অবস্থা! তিনি অনুমোদন না করে ফিরিয়ে দেন ওই কমিটি।
৩
২০২০ সালে পৌরসভা নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা আমার দোকান ভাঙচুর করে। এসময় আমার প্রায় ২ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়। তিনি আমাকে বাগান বাড়িতে ডেকে নিয়ে বিস্তারিত শুনেন। পরে মেয়র প্রার্থী অলিউডর রহমানকে পাটিয়্যে আমাকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। কিন্তু ২০২৩ সালে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির কমিটিতে উনি আমাকে দিতে চাইলে মিজ ইউনিয়ন এবং কুলাউড়া উপজেলার কয়েক বিএনপি নেতা এমন নোংরা রাজনীতি শুরু করেন এরপর থেকে আমি আর তেমন উনার সামনে যাই না।
৪
২০০২ সাল থেকে ২০২৪ সাল দীর্ঘ ২২ বছর উনি জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। আমি দেখেছি বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে ভালো মানুষগুলোকে তিনি নেতৃত্ব দিতে চাইতেন। হয়তো দলের সুনামের জন্য। যদিও একটু রাগ বেশী কিন্তু সততা ন্যায়নীতি এবং রাজনৈতিক দক্ষতার দিক থেকে মৌলভীবাজার জেলায় এম নাসের রহমান একজ-ই।
উপসংহার
আজকে উনার জন্মবার্ষিকী। আমি উনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। পাশাপাশি মরহুম এর সাইফুর রহমান সাহেবের স্মৃতি ধরে রাখার স্বার্থে আগামী জেলা কাউন্সিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উনাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চাচ্ছি।
লেখক:সাংবাদিক ও সাবেক চেয়ারম্যান ১০ নং হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ।কুলাউড়া।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আব্দুল বাছিত বাচ্চু
বার্তা সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় :
২৭ শাহ মোস্তফা রোড, মৌলভীবাজার -৩২০০
সেলফোন : ০১৭১২১৮২২৯৬ (𝐖𝐡𝐚𝐭𝐬𝐀𝐩𝐩) ০১৫৫৩৪৫৬৬৯৫
ই -মেইল : 𝐛𝐚𝐜𝐡𝐜𝐡𝐮.𝐬𝐲𝐥@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
𝐟𝐛: 𝐀𝐛𝐝𝐮𝐥 𝐁𝐚𝐬𝐢𝐭 𝐁𝐚𝐜𝐡𝐜𝐡𝐮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত